ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড PDF: বাংলাদেশ ডিপার্চার ও অ্যারাইভাল কার্ড ডাউনলোড, বহির্গমন ফরম পূরণ ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সচিত্র গাইড ২০২৬
সারসংক্ষেপ (Executive Summary): আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় বাংলাদেশ থেকে বহির্গমন এবং বিদেশের মাটিতে প্রবেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও বাধ্যতামূলক আইনি ধাপ হলো ইমিগ্রেশন ডিপার্চার ও অ্যারাইভাল কার্ড (Immigration Departure / Arrival Card) নির্ভুলভাবে পূরণ করা। অনেক নতুন প্রবাসী ভাই ইংরেজিতে ফরম পূরণ করতে ভয় পান, স্পেলিং ভুল করেন কিংবা তথ্যের অমিল ঘটিয়ে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দীর্ঘ বিলম্ব ও জেরার মুখে পড়েন। বর্তমানে সাধারণ কাগজের ফরমের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার MDAC, সিঙ্গাপুরের SG Arrival Card এবং সৌদি আরবের মুশকিলমুক্ত Muqeem পোর্টাল ডিজিটালি কার্যকর করা হয়েছে। এই নির্দেশিকায় ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড pdf, কাগজের ডিপার্চার কার্ডের প্রতিটি বক্স পূরণের নিয়ম (বড় হাতের ইংরেজি অক্ষরে লেখা, ফ্লাইট নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, পেশা, গন্তব্যের ঠিকানা), ডিজিটাল কার্ড সাবমিশন, বিএমইটি স্মার্ট কার্ড এবং এয়ারপোর্টে নিরক্ষর যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যের সহায়তা পাওয়ার ৩০টি সচিত্র নিয়মের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
🔗 সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রয়োজনীয় গাইড ও প্রবাসীবান্ধব এভিয়েশন রিসোর্স:
📑 এই পূর্ণাঙ্গ ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড ও পূরণ গাইডের প্রধান মডিউল সূচিপত্র
১. ভূমিকা: ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড PDF এবং বহির্গমন কার্ডের আইনি গুরুত্ব
যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—তা হোক ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (HSIA Dhaka Terminal), চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিংবা সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—ডিপার্চার ইমিগ্রেশন কাউন্টারে আপনার প্রথম আইনি পরিচিতি ঘটে আপনার মূল পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি ছাড়পত্র ও হাতে থাকা বহির্গমন কার্ডের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটিকে Departure Card Bangladesh (Embarkation Form) বলা হয়। এটি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ICAO Annex 9 Facilitation) এবং বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (Special Branch Immigration Directorate) কর্তৃক নির্ধারিত একটি আইনি ঘোষণাপত্র (Legal Declaration Document)।
অনেকেই মনে করেন ইমিগ্রেশন কার্ড ডাউনলোড (Immigration Card Download) বা ফরম পূরণ করা খুবই জটিল ও ভয়ংকর কোনো পরীক্ষা। কিন্তু বাস্তবে আপনার হাতে থাকা মূল পাসপোর্ট ও এয়ারলাইন্স চেক-ইন কাউন্টার থেকে প্রাপ্ত বোর্ডিং পাসে থাকা প্রতিটি তথ্য নির্দিষ্ট বক্সে হুবহু কপি করে বসিয়ে দিতে হয়। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে যেকোনো প্রথমবার বিদেশগামী যাত্রী মাত্র ২ থেকে ৩ মিনিটেই একটি শতভাগ নির্ভুল ও পরিচ্ছন্ন ইমিগ্রেশন ফরম বাংলাদেশ ডাউনলোড (Immigration Form Bangladesh pdf) করে কাউন্টারে জমা দিতে পারেন।
তাছাড়া বিদেশের মাটিতে প্রবেশের পূর্বে অনেক দেশে বর্তমানে ডিজিটাল অ্যারাইভাল পেপার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা সঠিক সময়ে অনলাইন কার্ড পূরণ করেন না, তাদের এয়ারপোর্টে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয় বা জরিমানা গুণতে হয়। তাই আমাদের এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকায় ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড pdf, ডিপার্চার কার্ড ও আন্তর্জাতিক অ্যারাইভাল কার্ডের প্রতিটি ধাপ খুঁটিনাটি সহ সচিত্র বর্ণনা করা হলো।
📄 বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট ডিপার্চার কার্ড (PDF) এখনই ডাউনলোড করুন
A4 সাইজ ফরম্যাটে সাদা-কালো বা রঙিন প্রিন্ট করে সাথে নিতে পারেন (সাইজ: ৩৫ KB)।
ক্লাস্টার ১: বাংলাদেশ ডিপার্চার কার্ড ও বহির্গমন ফরম ডাউনলোড নিয়মাবলী (কিউরি ০১–০৬)
বাংলাদেশ থেকে বিদেশ গমনের সময় প্রতিটি যাত্রীকে ইমিগ্রেশন পুলিশের ডেস্কে একটি নির্দিষ্ট বহির্গমন কার্ড (Departure Card Bangladesh) দাখিল করতে হয়। এটি সাধারণত এয়ারলাইন্স চেক-ইন কাউন্টার থেকে সরবরাহ করা হয়, তবে যাত্রীরা চাইলে পূর্বে থেকেই ইমিগ্রেশন কার্ড ডাউনলোড (Immigration card bd download) করে পূরণ করে রাখতে পারেন। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO) এবং বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের নির্দেশনায় এই কার্ডটি সংরক্ষণ করা হয়।
০১. ডিপার্চার কার্ড (Bangladesh Immigration Departure Form) কী এবং এটি কার জন্য প্রযোজ্য?
ডিপার্চার কার্ড (Departure Card BD / Embarkation Form) হলো একটি নির্ধারিত সাদা বা হালকা রঙের আইনি ফরম, যা বাংলাদেশ থেকে যেকোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে বিদেশযাত্রার পূর্বে পূরণ করে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে জমা দিতে হয়। এটিকে সাধারণ ভাষায় বহির্গমন কার্ড (Departure Card Form) বা ইমিগ্রেশন কার্ড বিডি (Immigration card bd download) বলা হয়।
- কার জন্য প্রযোজ্য: কর্মসংস্থান (Work Visa), ওমরাহ, ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসা, মেডিকেল ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশগামী সকল বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের জন্য এটি পূরণ করা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক।
- কেন নেওয়া হয়: সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও ইমিগ্রেশন পুলিশ ডাটাবেজে যাত্রীর বহির্গমন তারিখ, ফ্লাইট নম্বর, বহির্গমন বন্দর (Port of Embarkation), গন্তব্যের দেশ ও পেশাগত তথ্য নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে এটি সংরক্ষিত হয়।
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: এটি আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন সংস্থা (ICAO Facilitation Annex 9) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে তৈরি।
বাংলাদেশে মূলত তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট) দিয়ে বহির্গমন হয়। এই সকল বিমানবন্দরগুলোতে একই কেন্দ্রীয় ফরম ব্যবহৃত হয়। এই ফরমের মাধ্যমে সরকারের কাছে একজন নাগরিক কোন উদ্দেশ্যে ও কোন ফ্লাইটে দেশের বাইরে যাচ্ছেন তার সুনির্দিষ্ট সরকারি রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে।
০২. এয়ারপোর্টে ডিপার্চার কার্ড কোথায় পাওয়া যায় এবং এর জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?
ইমিগ্রেশন কার্ড সংগ্রহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে (100% Free of Cost):
- অনলাইন থেকে অগ্রিম ডাউনলোড: আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড PDF (Departure Card Bangladesh PDF download) করে আগে থেকেই পূরণ করে ব্যাগে রাখতে পারেন।
- চেক-ইন কাউন্টারে: লাগেজ জমা দিয়ে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় এয়ারলাইন্স প্রতিনিধি (যেমন: বিমান বাংলাদেশ, সাউদিয়া, এমিরেটস) আপনাকে বিনামূল্যে একটি ডিপার্চার কার্ড প্রদান করবেন।
- ইমিগ্রেশন লেখার ডেস্কে: ইমিগ্রেশন বুথের ঠিক সামনে লম্বা কাঠের রাইটিং ডেস্ক থাকে, যেখানে প্রচুর খালি কার্ড ও কলম রাখা থাকে।
- সতর্কতা: বিমানবন্দরের ভেতরে বা বাইরে কোনো দালাল বা অসাধু ব্যক্তিকে ফরমের জন্য টাকা দেবেন না; যেকোনো সমস্যায় সরাসরি দায়িত্বরত আনসার সদস্য বা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ হেল্পডেস্কে অবহিত করুন।
বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কোনো ডিপার্চার কার্ড বিক্রির অনুমোদন দেয় না। যদি কেউ এয়ারপোর্টের বাইরের কনকোর্স হলে বা পার্কিং এলাকায় ফরম পূরণের বিনিময়ে অর্থ দাবি করে, তবে সাথে সাথে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি হেল্পলাইন নম্বরে অভিযোগ দিন।
০৩. ডিপার্চার কার্ড পূরণের জন্য কোন কোন ডকুমেন্ট সাথে রাখতে হবে?
ডিপার্চার রাইটিং ডেস্কে দাঁড়িয়ে ফরম লেখার সময় নিচের ৪টি ডকুমেন্ট হাতের কাছে রাখুন:
- মূল পাসপোর্ট (Original Passport) — যেখান থেকে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও ইস্যুর স্থান দেখে লিখবেন।
- হাতে পাওয়া বোর্ডিং পাস (Boarding Pass) — যেখান থেকে ফ্লাইট নম্বর (যেমন: BG 312, SV 805, EK 585) ও আসন নম্বর মেলাবেন।
- ভিসার কপি (E-Visa Paper / Work Permit) — যেখান থেকে গন্তব্যের স্পনসর, কোম্পানি ও পেশার সঠিক ইংরেজি বানান দেখবেন।
- বিএমইটি স্মার্ট কার্ড (BMET Smart Card / Clearance) — প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে ম্যানপাওয়ার রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাইয়ের জন্য।
- একটি নিজস্ব কালো বা নীল কালির বলপেন কলম।
ডকুমেন্টগুলো একটি ফাইলে ক্রমানুসারে সাজিয়ে রাখলে ইমিগ্রেশন ডেস্কে দাঁড়ানোর সময় কোনো তাড়াহুড়ো বা ভীতি তৈরি হয় না।
০৪. ডিপার্চার কার্ডে কি বাংলায় লেখা যাবে নাকি শুধুমাত্র ইংরেজিতে লিখতে হবে?
শতভাগ ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে (Capital / BLOCK Letters) লিখতে হবে:
যেহেতু ইমিগ্রেশন ডাটাবেজ আন্তর্জাতিকভাবে পাঠযোগ্য হতে হয়, তাই কার্ডের প্রতিটি বক্স শুধুমাত্র ইংরেজি বর্ণমালায় পূরণ করতে হবে। ছোট হাতের অক্ষরের (Small Letters) পরিবর্তে বড় হাতের অক্ষরে (CAPITAL LETTERS) লিখলে স্পেলিং স্পষ্ট বোঝা যায় এবং অফিসার ডাটা দ্রুত স্ক্যান করতে পারেন।
অনেকেই পাসপোর্টের বাংলা নাম দেখে কার্ডে বাংলায় লিখে ফেলেন, যা ইমিগ্রেশন সফটওয়্যার গ্রহণ করে না। তাই সর্বদা পাসপোর্টের নিচের ইংরেজি অংশটি দেখে লিখুন।
০৫. বাংলাদেশ আগমনী কার্ড (Bangladesh Immigration Arrival form) কাদের পূরণ করতে হয়?
আগমনী কার্ড (Arrival Card BD PDF): বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসার পর অথবা বাংলাদেশে আগত যেকোনো বিদেশি নাগরিক বা এনআরবি যাত্রীদের জন্য Bangladesh Immigration Arrival form পূরণ করতে হয়। এতে ফ্লাইটের আগমন বিবরণ, বাংলাদেশে অবস্থানের ঠিকানা, যোগাযোগের মোবাইল নম্বর ও কাস্টমস ডিক্লারেশন লিপিবদ্ধ থাকে।
বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ী যারা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চান, তাদের এই আগমনী ফরম পূরণ করে নির্দিষ্ট ভিসা ফি ব্যাংকে জমা দিয়ে অ্যারাইভাল কাউন্টারে যেতে হয়।
০৬. ইমিগ্রেশন ফরম পূরণে কাটাকাটি বা ভুল হলে কি নতুন ফরম নেওয়া যায়?
হ্যাঁ, কোনো বক্সে কাটাকাটি বা ওভাররাইটিং হলে ফ্লুইড ব্যবহার না করে সরাসরি আরেকটি নতুন খালি ফরম নিয়ে পরিচ্ছন্নভাবে লিখুন। কোনো দ্বিধা ছাড়া ইমিগ্রেশন ডেস্ক থেকে যত ইচ্ছা ফ্রিতে অতিরিক্ত ফরম সংগ্রহ করা যায়।
কাটাকাটি যুক্ত ফরম দেখলে অফিসার অনেক সময় অতিরিক্ত প্রশ্ন করতে পারেন বা জালিয়াতির সন্দেহ করতে পারেন। তাই পরিচ্ছন্ন ফ্রেশ কপি জমা দেওয়াই সর্বোত্তম বুদ্ধিমানের কাজ।
ক্লাস্টার ২: বহির্গমন কার্ড পূরণ ও প্রতিটি বক্স লেখার সচিত্র নিয়ম (কিউরি ০৭–১২)
ডিপার্চার কার্ডে মোট ১০ থেকে ১২টি নির্দিষ্ট ফিল্ড থাকে। পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের সাথে মিল রেখে প্রতিটি বক্স কীভাবে পূরণ করবেন তা নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো:
০৭. 'Full Name' বক্সে কীভাবে নাম লিখতে হবে?
পাসপোর্টের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় (বায়োমেট্রিক পেজ) যেভাবে নাম লেখা আছে, হুবহু সেভাবে বড় হাতের অক্ষরে লিখুন। ডাকনাম বা অতিরিক্ত কোনো পদবি যোগ করবেন না। যেমন: পাসপোর্টে MD RAHIM UDDIN থাকলে ফরমের বক্সে লিখবেন MD RAHIM UDDIN।
নাম লেখার সময় প্রতিটি শব্দের মাঝে একটি ঘরের সমান ফাঁকা (স্পেস) দিন। যদি কারও নাম পাসপোর্টে বড় হয়, তবে বক্সের সাইজের মধ্যে পরিচ্ছন্নভাবে সম্পূর্ণ নাম লিখুন।
০৮. 'Passport No' ও 'Place of Issue' ঘরে কী লিখতে হবে?
Passport No: আপনার পাসপোর্ট নম্বরের প্রথম ইংরেজি অক্ষর সহ সম্পূর্ণ নম্বরটি লিখুন (যেমন: A01928374 বা EE0987654)।
Place of Issue: আপনার পাসপোর্ট যে আঞ্চলিক অফিস থেকে ইস্যু হয়েছে (যেমন: DHAKA, CHITTAGONG, SYLHET বা DIP/DHAKA) তা লিখুন।
পাসপোর্টে যদি কোনো ও (O) বা শূন্য (0) থাকে, তবে সতর্কতার সাথে দেখে লিখুন যাতে কোনো বর্ণ ও সংখ্যার গরমিল না ঘটে।
০৯. 'Flight No' ও 'Date of Departure' কীভাবে পূরণ করবেন?
Flight No: বোর্ডিং পাসের উপরে থাকা দুই অক্ষরের এয়ারলাইন কোড ও নম্বরটি লিখুন (যেমন: বিমান বাংলাদেশ হলে BG 312, সাউদিয়া হলে SV 805, এমিরেটস হলে EK 585, ফ্লাইদুবাই হলে FZ 524)।
Date: দিন/মাস/বছর ফরম্যাটে যাত্রার তারিখ লিখুন (যেমন: 21/08/2026)।
মাঝরাতে ফ্লাইট থাকলে (যেমন রাত ১২টা ১০ মিনিট), তারিখ পরিবর্তনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন এবং আপনার বোর্ডিং পাসে যে তারিখ মুদ্রিত রয়েছে হুবহু সেই তারিখটিই বসান।
১০. 'Occupation' (পেশা) বক্সে কী লিখবেন? ২০টি জনপ্রিয় পেশার সঠিক ইংরেজি বানান
আপনার ভিসা বা BMET স্মার্ট কার্ডে যে পেশা উল্লেখ আছে, ঠিক সেই পেশাটি বড় হাতের অক্ষরে লিখবেন। নিচে শীর্ষ ২০টি পেশার সঠিক ইংরেজি তালিকা দেওয়া হলো:
গৃহকর্মী বা নারীকর্মীদের ক্ষেত্রে সাধারণত HOUSEMAID / DOMESTIC WORKER লিখতে হয়।
১১. 'Address Abroad' ও 'Contact in BD' বক্সে কী ঠিকানা দেবেন?
Address in BD: আপনার দেশের স্থায়ী বা বর্তমান গ্রামের নাম, থানা ও জেলার নাম লিখুন (যেমন: VILL: CHANDPUR, PS: SADAR, DIST: CHANDPUR)।
Address Abroad: গন্তব্য দেশের শহর এবং স্পনসর বা কোম্পানির নাম লিখুন (যেমন: RIYADH, SAUDI ARABIA অথবা DUBAI, UAE অথবা KUALA LUMPUR, MALAYSIA)।
জরুরি যোগাযোগের ফোন নম্বরের ঘরে বাংলাদেশের চালু সচল মোবাইল নম্বর এবং সম্ভব হলে গন্তব্য দেশের স্পনসর বা আত্মীয়ের নম্বর উল্লেখ করুন।
১২. 'Signature' (দস্তখত) বক্সে স্বাক্ষর করার নিয়ম কী?
পাসপোর্টের ২য় পৃষ্ঠায় আপনি যেভাবে স্বাক্ষর বা দস্তখত করেছেন, হুবহু সেই স্বাক্ষরের সাথে মিল রেখে ডিপার্চার কার্ডের নিচে স্বাক্ষর করুন। পাসপোর্টে টিপসই থাকলে টিপসই দেবেন অথবা পাসপোর্টের স্বাক্ষরের সাথে যেন কোনো অসামঞ্জস্য না থাকে।
স্বাক্ষরের নিচে কোনো তারিখ লেখার আলাদা ঘর থাকলে আজকের তারিখটি সুন্দরভাবে লিখে দিন।
ক্লাস্টার ৩: দেশভিত্তিক ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (MDAC, SG Card, Muqeem) নিয়মাবলী (কিউরি ১৩–১৮)
বাংলাদেশ থেকে সফলভাবে বহির্গমন সম্পন্ন করার পর আপনি যে দেশে অবতরণ করবেন, সেই দেশের এয়ারপোর্টে প্রবেশের জন্য পূর্বাহ্নেই ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড পূরণ করা বাধ্যতামূলক:
১৩. মালয়েশিয়া ডিজিটাল অ্যারাইভাল কার্ড (MDAC) পূরণের নিয়ম ও লিংক
মালয়েশিয়া ভ্রমণের ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) পূর্বে প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের জন্য MDAC (Malaysia Digital Arrival Card) পূরণ করা বাধ্যতামূলক:
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://imigresen-online.imi.gov.my/mdac/main
- পাসপোর্ট নম্বর, নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয়তা এন্ট্রি করুন।
- ফ্লাইট নম্বর ও মালয়েশিয়ায় হোটেলের ঠিকানা বা হোস্টের ঠিকানা দিন।
- সাবমিট করার পর প্রাপ্ত পিডিএফ ফাইলটি ফোনে সংরক্ষণ করুন বা ১ কপি প্রিন্ট করে সাথে রাখুন।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA 1 ও KLIA 2)-এ পৌঁছানোর পর এই কার্ডের বারকোড স্ক্যান করলেই তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন পার হওয়া যায়।
১৪. সিঙ্গাপুর অ্যারাইভাল কার্ড (SG Arrival Card with Electronic Health Declaration)
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ ৩ দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুর ইমিগ্রেশন ও চেকপয়েন্টস কর্তৃপক্ষের (ICA) পোর্টালে SG Arrival Card সাবমিট করতে হয়:
- অফিসিয়াল পোর্টাল: https://eservices.ica.gov.sg/sgarrivalcard/ অথবা 'MyICA Mobile' অ্যাপ।
- ব্যক্তিগত পাসপোর্ট তথ্য ও সিঙ্গাপুরে থাকার হোটেলের ঠিকানা প্রদান করুন।
- ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের টিক চিহ্ন দিন। এর জন্য কোনো ফি প্রযোজ্য নয়।
সিঙ্গাপুর চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার আগেই এই ডিজিটাল কার্ড সাবমিট করা থাকলে স্বয়ংক্রিয় বায়োমেট্রিক গেটে দ্রুত পার হওয়া যায়।
১৫. সৌদি আরব মুকিম (Muqeem) পোর্টাল রেজিস্ট্রেশন ও ইমিগ্রেশন নিয়ম
সৌদি আরবে নতুন ভিসাধারী বা রি-এন্ট্রি ভিসাধারীদের ফ্লাইটের পূর্বে মুকিম (Muqeem Portal)-এ এরাইভাল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়:
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: https://muqeem.sa
- ভ্যাকসিনেটেড ভিজিটর বা ভ্যাকসিনেটেড রেসিডেন্ট হিসেবে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
- রেজিস্ট্রেশনের কিউআর কোড যুক্ত কনফার্মেশন প্রিন্ট কপি বোর্ডিং ও সৌদি ইমিগ্রেশনে প্রদর্শন করুন।
রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় মুকিম রেজিস্ট্রেশন পেপার এবং তাওক্কালনা (Tawakkalna) স্ট্যাটাস যাচাই করা হয়।
১৬. কাতার, ওমান ও কুয়েত এয়ারপোর্টে কাগজের অ্যারাইভাল কার্ড আছে কি?
গালফভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে বায়োমেট্রিক ই-গেট ও সরাসরি পাসপোর্ট স্ক্যানিং প্রযুক্তির কারণে কাগজের অ্যারাইভাল কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কপি ও রিটার্ন টিকিট ইমিগ্রেশন অফিসারের সামনে পেশ করলেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে প্রবেশ সিল দিয়ে দেওয়া হয়।
দোহা হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, মাস্কাট এয়ারপোর্ট এবং কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে সম্পূর্ণ আধুনিক ডিজিটাল গেটের মাধ্যমে যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত সম্পন্ন হয়।
১৭. থাইল্যান্ড ও ভারতের এয়ারপোর্টে আগমনী কার্ডের নিয়মাবলী
থাইল্যান্ড (TM6 Form): আকাশপথে আগত পর্যটকদের জন্য TM6 সাময়িকভাবে ডিজিটাল বা স্থগিত থাকলেও স্থলপথে এটি প্রযোজ্য।
ভারত (Disembarkation Card): আকাশপথে ভারতে পৌঁছালে ফ্লাইটের ভেতরেই কেবিন ক্রুরা সাদা রঙের অ্যারাইভাল ফরম দেন, যা নাম, পাসপোর্ট নম্বর ও ভারতে থাকার ঠিকানা লিখে ইমিগ্রেশনে জমা দিতে হয়।
কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এয়ারপোর্ট বা দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পূর্বেই ফ্লাইটের সিটে বসে এটি পূরণ করে পাসপোর্ট ও ভিসার সাথে প্রস্তুত রাখুন।
১৮. ট্রানজিট যাত্রীদের কি ট্রানজিট এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হয়?
না! যদি আপনার একই টিকেটে কানেক্টিং ফ্লাইট থাকে এবং আপনি ট্রানজিট এরিয়া ছেড়ে শহরের বাইরে না যান, তবে ট্রানজিট এয়ারপোর্টে কোনো ইমিগ্রেশন কার্ড পূরণ করতে হয় না। সরাসরি 'International Flight Connections / Transfers' সাইনবোর্ড অনুসরণ করে পরবর্তী বোর্ডিং গেটে চলে যাবেন।
তবে যদি আপনার আলাদা আলাদা টিকেট থাকে বা সেলফ-ট্রান্সফার (Self-transfer) করতে হয়, তবে ট্রানজিট দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে লাগেজ সংগ্রহ করে পুনরায় চেক-ইন করতে হয়। সেক্ষেত্রে ট্রানজিট ভিসার সাথে ওই দেশের আগমনী কার্ড পূরণ বাধ্যতামূলক।
ক্লাস্টার ৪: নিরক্ষর যাত্রীদের সহায়তা, ভুল সংশোধন ও এয়ারপোর্ট হেল্পডেস্ক (কিউরি ১৯–২৪)
আমাদের প্রবাসী ভাইদের অনেকেই হয়তো ইংরেজি ভালো লিখতে পারেন না। তাদের জন্য এয়ারপোর্টে রয়েছে অফিশিয়াল ফ্রি সহায়তা ব্যবস্থা:
১৯. যিনি ইংরেজি পড়তে বা লিখতে পারেন না, তিনি কীভাবে ফরম পূরণ করবেন?
৩টি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনি উপায়:
- প্রবাসী কল্যাণ হেল্পডেস্ক: এয়ারপোর্ট টার্মিনালের ভেতরে জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর (BMET) 'প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক' রয়েছে। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা আপনার পাসপোর্ট ও টিকিট দেখে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ফরম লিখে দেবেন।
- এয়ারলাইন্স গ্রাউন্ড স্টাফ: চেক-ইন কাউন্টারের যে কর্মকর্তা বোর্ডিং পাস দিচ্ছেন, তাকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করলে তিনি ফরমটি পূরণ করে দেন।
- সহযাত্রীর সহায়তা: আপনার পাশের লাইনে দাঁড়ানো যেকোনো সচেতন বাংলাদেশি ভাই বা ট্রাভেলারের সাহায্য নিতে পারেন। কাউকে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
কাউকে ফরম লিখতে দেওয়ার পর নিজের পাসপোর্ট নম্বর ও নাম মিলিয়ে দেখে নিন। সরকারি কর্মকর্তা ও সহযাত্রীগণ সবসময় প্রবাসী ভাইদের সাহায্য করতে আন্তরিক থাকেন।
২০. এয়ারপোর্টের দালাল চক্রের খপ্পর থেকে বাঁচার উপায়
টার্মিনাল ১ ও ২ এর বাইরে কিছু অসাধু ব্যক্তি সরলমনা প্রবাসীদের ভয় দেখিয়ে ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা দাবি করে ফরম পূরণের কথা বলে। মনে রাখবেন—বিমানবন্দরে ফরম বা পেন ব্যবহারের জন্য কাউকে ১টি পয়সাও দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। কোনো অচেনা লোকের হাতে মূল পাসপোর্ট বা টিকিট তুলে দেবেন না।
ঢাকা বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) ২৪ ঘণ্টা এই দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। দালাল দেখলে অবিলম্বে ১ নম্বর বা ২ নম্বর টার্মিনালের প্রবেশ গেটে থাকা এপিবিএন পুলিশ বুথে জানান।
২১. কার্ডে ভুল তথ্য দিলে কি অফলোড (Offload) হওয়ার ঝুঁকি থাকে?
অনিচ্ছাকৃত স্পেলিং মিস্টেকের কারণে কাউকে অফলোড করা হয় না। অফিসার ভুল চিহ্নিত করলে লাইনে দাঁড়িয়েই নতুন ফরম দিয়ে সঠিক তথ্য লিখতে বলেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া পাসপোর্ট নম্বর বা জাল ভিসা তথ্য দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অফলোড সাধারণত ঘটে যদি ভিসার মেয়াদ না থাকে, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স জাল হয়, কিংবা ভুয়া টিকেট নিয়ে ভ্রমণ করার চেষ্টা করা হয়। সাধারণ ফরম লেখার ভুলের জন্য কোনো যাত্রী অফলোড হন না।
২২. কাস্টমস ডিক্লারেশন (Customs Goods Declaration) বক্সের নিয়ম
যদি আপনার কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ঘোষিত সীমার অতিরিক্ত স্বর্ণ (যেমন: ১১৭ গ্রামের বেশি সোনার বার) বা নগদ ৫,০০০ ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা না থাকে, তবে কাস্টমস ডিক্লারেশনে NIL / NO সিলেক্ট করবেন। কোনো ঘোষণাযোগ্য পণ্য থাকলে রেড চ্যানেলে কাস্টমস ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে।
প্রবাসীরা দেশে আসার সময় ব্যক্তিগত ব্যবহৃত জিনিসপত্র (যেমন: ১টি ল্যাপটপ, ২টি মোবাইল ফোন, বছরে ১ বার ১০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণালংকার) সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনতে পারেন।
২৩. পাসপোর্ট রিনিউয়াল বা নতুন ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কী লিখবেন?
আপনার সর্বশেষ কার্যকর নতুন পাসপোর্টের নম্বরটিই ডিপার্চার ফর্মে লিখবেন। ভিসার সাথে আগের পাসপোর্টের লিংক থাকলে উভয় পাসপোর্টই ইমিগ্রেশন ডেস্কে একসাথে জমা দেবেন।
পুরানো এমআরপি (MRP) পাসপোর্ট বাতিল হয়ে নতুন ই-পাসপোর্ট (E-Passport) ইস্যু হলেও পুরানো পাসপোর্টে থাকা বৈধ ভিসা নষ্ট হয় না। উভয় পাসপোর্ট একটি ফিতায় বেঁধে রাখুন।
২৪. ডিপার্চার কার্ড লেখার পর এটি কার হাতে জমা দিতে হবে?
ইমিগ্রেশন অফিসারের বুথে আপনার সিরিয়াল এলে পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের পাতার ভেতর ডিপার্চার কার্ডটি সোজা করে অফিসারের ডেস্কে রাখুন। অফিসার পাসপোর্ট স্ক্যান করে তথ্য যাচাই শেষে কার্ডটি নিজের কাছে জমা রেখে পাসপোর্টে বহির্গমন সিল (Exit Stamp) প্রদান করবেন।
কাউন্টারে অফিসারকে সালাম দিয়ে নম্রভাবে কথা বলুন। আপনার কোনো ডকুমেন্ট ভাঁজ না করে অফিসারের দিকে মুখ করে সোজাভাবে এগিয়ে দিন।
ক্লাস্টার ৫: বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড, ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউ ও গোল্ডেন টিপস (কিউরি ২৫–৩০)
প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সবচেয়ে প্রধান যাচাই হলো বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড (BMET Registration Card Download PDF) এবং বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিংক হওয়া।
২৫. বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড (BMET Smart Card Registration Card Download PDF)
প্রবাসী কর্মীদের বিদেশযাত্রার জন্য বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড (BMET EC card download) একটি অপরিহার্য ধাপ। এটি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অনুমোদিত ম্যানপাওয়ার ডাটাবেজে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ভিসা ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করে:
- আমি প্রবাসী অ্যাপ (Ami Probashi App): গুগল প্লে স্টোর থেকে 'আমি প্রবাসী' অ্যাপে লগইন করে সরাসরি আপনার BMET রেজিস্ট্রেশন কার্ড ডাউনলোড pdf সংগ্রহ করতে পারেন।
- অফিশিয়াল কিউআর কোড স্ক্যান: বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটে থাকা কিউআর কোডটি ইমিগ্রেশন ডেস্কে স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসার বিশেষ স্ক্যানার দিয়ে চেক করেন।
- স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট কপি: এয়ারপোর্টে স্মার্টফোনে পিডিএফ রাখার পাশাপাশি ১ কপি রঙিন বা লেমিনেটেড প্রিন্ট কপি সাথে রাখা অত্যন্ত নিরাপদ।
যদি আপনি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ম্যানপাওয়ার করে থাকেন, তবে তাদের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স কার্ডের মূল পিডিএফ ফাইলটি হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমেইলে চেয়ে নিন এবং বিদেশযাত্রার ৩ দিন আগেই এর কিউআর কোড স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করে নিন।
২৬. ইমিগ্রেশন অফিসার সাধারণত কী কী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন?
শীর্ষ ৫টি কমন প্রশ্ন ও তার আত্মবিশ্বাসী উত্তর:
প্রশ্ন ১: আপনি কোথায় যাচ্ছেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: "স্যার, আমি অমুক দেশে কর্মসংস্থান / ওমরাহ / ভিজিট ভিসায় যাচ্ছি।"
প্রশ্ন ২: আপনার কোম্পানি বা স্পনসরের নাম কী?
উত্তর: আপনার ভিসায় থাকা কোম্পানির নাম বা নিয়োগকর্তার নাম স্পষ্ট উচ্চারণে বলুন।
প্রশ্ন ৩: আপনার কত টাকা বেতন ধরা হয়েছে এবং কাজের পদ কী?
উত্তর: বিএমইটি চুক্তিপত্রে উল্লেখিত বেতনের অংক ও পদের নাম (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান) বলুন।
প্রশ্ন ৪: আপনার সাথে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বা স্বর্ণালংকার আছে কি?
উত্তর: আপনার কাছে বৈধ ডলার বা রিয়াল থাকলে তার সত্য বিবরণ দিন।
সবসময় চোখ মুখ শান্ত রেখে স্পষ্টভাবে উত্তর দিন। কোনো তথ্য বানিয়ে বা আন্দাজে বলবেন না।
২৭. ইমিগ্রেশন ডেস্কে ক্যামেরার দিকে তাকানোর সঠিক নিয়ম
কাউন্টারে অফিসারের ডেস্কে একটি হাই-ডেফিনিশন ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা থাকে। অফিসার যখন ইশারা করবেন, তখন টুপি বা চশমা খুলে সরাসরি ক্যামেরার লেন্সের দিকে স্থির দৃষ্টিতে ২-৩ সেকেন্ড তাকান। ক্যামেরার ছবি আপনার পাসপোর্ট বায়োমেট্রিকের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাচ করা হয়।
ক্যামেরার ছবির ম্যাচিং শতভাগ সফল হলে অফিসারের কম্পিউটারে সবুজ সংকেত প্রদর্শিত হয়।
২৮. পাসপোর্টে এক্সিট সিল (Exit Stamp) চেক করার গুরুত্ব
ইমিগ্রেশন কাউন্টার ছাড়ার পূর্বেই পাসপোর্টটি খুলে নিশ্চিত হোন যে অফিসার আপনার পাসপোর্টের কোনো ফাঁকা পৃষ্ঠায় আজকের তারিখ সহ বহির্গমন স্ট্যাম্প (Exit Seal) পরিষ্কারভাবে দিয়েছেন কিনা। সিল ছাড়া সিকিউরিটি গেট পার হওয়া যায় না।
ভবিষ্যতে পুনরায় দেশে প্রবেশ বা ট্রানজিট করার সময় এই এক্সিট সিলটি আইনি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গণ্য হয়।
২৯. ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পর বোর্ডিং গেটে পৌঁছানোর সময়সীমা
ইমিগ্রেশন শেষ হওয়া মাত্রই সিকিউরিটি গেট পেরিয়ে সরাসরি আপনার বোর্ডিং পাসে উল্লেখিত নির্দিষ্ট গেট নম্বরে চলে যান। ফ্লাইট ছাড়ার কমপক্ষে ৪৫ মিনিট আগেই গেট ক্লোজ হয়ে যায়, তাই অযথা শপিং বা লাউঞ্জে দেরি করবেন না।
গেট নম্বরে পৌঁছে সেখানে থাকা ডিসপ্লে স্ক্রিনে আপনার ফ্লাইটের নাম ও স্ট্যাটাস 'Boarding' বা 'Gate Open' দেখাচ্ছে কিনা তা মিলিয়ে নিন।
৩০. স্মার্টফোনে 'প্রবাসী ফ্লাইট' অ্যাপ রাখার সুবিধা
আমাদের 'প্রবাসী ফ্লাইট' (Probashi Flight) মোবাইল অ্যাপে পাবেন ডিজিটাল ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ সহায়ক, এয়ারপোর্ট নির্দেশিকা ও প্রি-ডিপার্চার চেকলিস্ট সম্পূর্ণ ফ্রিতে। ভ্রমণকে শতভাগ শঙ্কামুক্ত করতে গুগল প্লে স্টোর থেকে আজই ইনস্টল করে নিন।
অ্যাপে আপনার ফ্লাইটের পিএনআর (PNR) বা ফ্লাইট নম্বর যুক্ত করে রাখলে গেট পরিবর্তন, ফ্লাইট ডিলে বা বোর্ডিং সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পেয়ে যাবেন সম্পূর্ণ অফলাইনে।
ইমিগ্রেশন বহির্গমন কার্ড পূরণ চেকলিস্ট ও নমুনা ডাটা ছক ২০২৬
ডিপার্চার কার্ড লেখার সময় নিচের টেবিলটি দেখে আপনার পাসপোর্টের সাথে তথ্য মিলিয়ে নিন
| ফর্মের ফিল্ডের নাম (Box Name) | বাংলা অর্থ | তথ্য যেখান থেকে দেখে লিখবেন | নমুনা লেখার উদাহরণ (Sample) |
|---|---|---|---|
| ১. Full Name | পাসপোর্টের সম্পূর্ণ নাম | পাসপোর্ট বায়ো পেজ | MD RAHIM UDDIN |
| ২. Nationality | জাতীয়তা | পাসপোর্ট | BANGLADESHI |
| ৩. Passport No | পাসপোর্ট নম্বর | পাসপোর্ট প্রথম পাতা | A01928374 |
| ৪. Place of Issue | পাসপোর্ট ইস্যুর অফিস | পাসপোর্ট পেজ ২ | DHAKA |
| ৫. Flight No | ফ্লাইট নম্বর | বোর্ডিং পাস | BG 312 / SV 805 |
| ৬. Date of Journey | বহির্গমনের তারিখ | বোর্ডিং পাস | 21/08/2026 |
| ৭. Occupation | পেশা বা কাজের ধরন | ভিসা / BMET কার্ড | LABOUR / DRIVER |
| ৮. Purpose of Visit | ভ্রমণের উদ্দেশ্য | ভিসা টাইপ | EMPLOYMENT / WORK |
| ৯. Address Abroad | গন্তব্যের দেশের শহর | ভিসা / কোম্পানি | RIYADH, SAUDI ARABIA |
| ১০. Signature | যাত্রীর দস্তখত | পাসপোর্টের স্বাক্ষর | Rahim (Sign) |
ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড PDF প্রিন্ট করার সঠিক পদ্ধতি ও এয়ারপোর্টে উপস্থাপনের গাইডলাইন
যারা বাসা বা ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আগেই ইমিগ্রেশন ফরম ডাউনলোড PDF (Departure Card Bangladesh PDF download) করে প্রিন্ট নিতে চান, তাদের জন্য নিচের কারিগরি নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
📄 ১. কাগজের মাপ ও প্রিন্ট কোয়ালিটি
আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ফরমটি সর্বদা স্ট্যান্ডার্ড সাদা A4 সাইজের (৮০ জিএসএম) অফসেট পেপারে প্রিন্ট করবেন। প্রিন্টার সেটিংসে 'Fit to Printable Area' বা 'Actual Size 100%' নির্বাচন করুন যাতে বক্সের কোনো লেখা কাটা না যায়।
🖋️ ২. কলম ও লেখার নিয়মাবলী
ফরম পূরণে সর্বদা কালো (Black) অথবা গাঢ় নীল (Dark Blue) রঙের বলপেন কলম ব্যবহার করুন। জেল পেন বা কালির কলম ব্যবহার করবেন না, কারণ সামান্য ঘাম বা পানিতে কালি ছড়িয়ে গিয়ে পুরো ফর্ম নষ্ট হতে পারে।
📁 ৩. এয়ারপোর্টে নিরাপদ বহন পদ্ধতি
প্রিন্ট করা ও পূরণ করা ফরমটি ভাঁজ না করে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক ফাইল বা পাসপোর্ট ফোল্ডারের ভেতর পাসপোর্ট ও বোর্ডিং পাসের সাথে রাখুন। কাউন্টারে অফিসার চাওয়ামাত্র সরাসরি সমতল অবস্থায় উপস্থাপন করুন।
📑 ৪. অতিরিক্ত ব্যাকআপ কপি সাথে রাখা
ভ্রমণের সময় সবসময় ১টি খালি ব্ল্যাঙ্ক ফরম অতিরিক্ত সাথে রাখবেন। কোনো কারণে মূল ফরমে দাগ পড়লে বা পানি লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কপিটি কাজে লাগবে।
ইমিগ্রেশন ফরম ও বহির্গমন সংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসিত অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ইমিগ্রেশন ডিপার্চার কার্ডে কি ওভাররাইটিং বা হোয়াইটনার ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: না, সরকারি আইনি দলিলে কোনো অবস্থাতেই ফ্লুইড, হোয়াইটনার বা কাটাকাটি গ্রহণযোগ্য নয়। ভুল হলে সরাসরি আরেকটি নতুন ফরম সংগ্রহ করে লিখুন।
প্রশ্ন: শিশুর ভ্রমণের ক্ষেত্রে কি আলাদা ডিপার্চার কার্ড পূরণ করতে হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, প্রতিটি পৃথক পাসপোর্টের জন্য আলাদা একটি বহির্গমন কার্ড পূরণ করতে হবে। পিতা বা মাতা অভিভাবক হিসেবে শিশুর ফরমে স্বাক্ষর করবেন।
প্রশ্ন: ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষেত্রে পেশা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কী লিখতে হবে?
উত্তর: ওমরাহ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে 'Purpose of Visit' ঘরে OMRAH / RELIGIOUS এবং পেশার ঘরে মূল পেশা (যেমন: BUSINESS / SERVICE / RETIRED / HOUSEWIFE) লিখতে হবে।
প্রশ্ন: ডিজিটাল ই-গেট ব্যবহার করলে কি ডিপার্চার কার্ড জমা দিতে হয়?
উত্তর: ঢাকায় ই-গেট চালু থাকলেও প্রবাসী কর্মীদের ম্যানপাওয়ার ছাড়পত্র যাচাই ও পাসপোর্টে স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডেস্ক ব্যবহার করাই নিয়ম।
ইমিগ্রেশন ডেস্কে প্রবাসীদের মুখোমুখি হওয়া ১০টি জটিল সমস্যা ও তাত্ক্ষণিক আইনি সমাধান
অনেক সময় সম্পূর্ণ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও বিমানবন্দরে অপ্রত্যাশিত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। নিচে শীর্ষ ১০টি জটিল পরিস্থিতি ও তার তাত্ক্ষণিক সমাধানের বাস্তব কৌশল আলোচনা করা হলো:
১. পাসপোর্টের তথ্যের সাথে ভিসার নামের সামান্য বানান অমিল (Spelling Mismatch)
সমাধান: ডিপার্চার কার্ডে সর্বদা মূল পাসপোর্টের স্পেলিং হুবহু লিখবেন। ইমিগ্রেশন অফিসার প্রশ্ন করলে ম্যানপাওয়ার (BMET) ক্লিয়ারেন্স পেপার ও জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রদর্শন করে ব্যাখ্যা করুন যে এটি টাইপিং মিস্টেক হলেও ডাটাবেজে আপনার বায়োমেট্রিক ও এনআইডি নম্বর শতভাগ ভেরিফাইড।
২. বিএমইটি (BMET) সার্ভার ডাউন বা এয়ারপোর্টে ফিঙ্গার ম্যাচ না করা
সমাধান: সাথে সবসময় স্মার্টফোনে 'আমি প্রবাসী' (Ami Probashi) অ্যাপে ডাউনলোড করা ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড এবং মূল মুদ্রিত কাগজের ক্লিয়ারেন্স কপি সাথে রাখুন। অফিসারকে ফিজিক্যাল কিউআর কোড স্ক্যান করার অনুরোধ জানান।
৩. ইমিগ্রেশন ডেস্কে অফিসার কর্তৃক অতিরিক্ত জেরা ও হয়রানির চেষ্টা
সমাধান: কখনোই উত্তেজিত হবেন না। নিজের সকল কাগজ (পাসপোর্ট, টিকিট, ভিসা, মেডিকেল ফিট সার্টিফিকেট, বিএমইটি কার্ড) একটি ফাইলে সুন্দরভাবে সাজিয়ে অফিসারের সামনে রাখুন। কোনো অনৈতিক দাবি করলে সরাসরি বলুন যে আপনি বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন।
৪. পুরানো পাসপোর্টে বৈধ ভিসা কিন্তু নতুন ই-পাসপোর্টে কোনো ভিসা স্টিকার নেই
সমাধান: এয়ারপোর্টে ভ্রমণের সময় দুটি পাসপোর্টই (পুরানো ক্যানসেলড পাসপোর্ট ও নতুন সক্রিয় ই-পাসপোর্ট) একসাথে বহন করতে হবে। ডিপার্চার ফর্মে নতুন পাসপোর্টের নম্বর লিখবেন এবং অফিসারের কাছে উভয় পাসপোর্ট একসাথে জমা দেবেন।
৫. ট্রানজিট এয়ারপোর্টে কানেক্টিং ফ্লাইট মিস হয়ে গেলে ইমিগ্রেশন জটিলতা
সমাধান: ট্রানজিট এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ছেড়ে বাইরে যাবেন না। সরাসরি এয়ারলাইন্সের 'Transit Service Desk'-এ গিয়ে যোগাযোগ করুন। তারা বিনামূল্যে পরবর্তী ফ্লাইটের বোর্ডিং পাস এবং দীর্ঘ ট্রানজিট হলে ফ্রি ট্রানজিট হোটেল ও ট্রানজিট পাস ইস্যু করবে।
৬. গন্তব্য দেশে পৌঁছে স্পনসর বা কোম্পানির প্রতিনিধি এয়ারপোর্টে না আসা
সমাধান: ইমিগ্রেশন ডেস্কে আতঙ্কিত হবেন না। এয়ারপোর্টের ফ্রি ওয়াইফাই কানেক্ট করে আপনার নিয়োগকারী বা রিক্রুটিং এজেন্সির জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন। ইমিগ্রেশন পার হয়ে অ্যারাইভাল লাউঞ্জের প্যাসেঞ্জার মিটিং পয়েন্টে শান্তভাবে অপেক্ষা করুন।
৭. বিদেশের এয়ারপোর্টে রিটার্ন টিকিট ও হোটেল বুকিং চেক
সমাধান: ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে রিটার্ন কনফার্মড টিকিট এবং কনফার্মড হোটেল ভাউচার প্রিন্ট কপি রাখুন। অফিসারের প্রশ্নে ভ্রমণের প্ল্যান সংক্ষেপে বলুন।
৮. পাসপোর্টের পাতার সংকট ও ইমিগ্রেশন সিল মারার খালি জায়গা
সমাধান: পাসপোর্টে কমপক্ষে ২টি ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। যদি পৃষ্ঠা শেষ হয়ে যায়, তবে অবিলম্বে ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করতে হবে।
৯. নাম বা পিতার নামে এয়ারপোর্ট সিস্টেমে ব্ল্যাকলিস্ট কনফিউশন
সমাধান: কোনো ব্যক্তির একই নামের সাথে মিলের কারণে সন্দেহ তৈরি হলে এনআইডি কার্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদর্শন করুন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জের কাছে ডাটাবেজ ভেরিফিকেশনের আবেদন করুন।
১০. লাগেজ অতিরিক্ত ওজন বা নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে ইমিগ্রেশন ডেস্কে বিলম্ব
সমাধান: হ্যান্ড লাগেজে কখনো তরল পদার্থ (১০০ মিলির বেশি) বা ধারালো কাঁচি রাখবেন না এবং পাওয়ার ব্যাংক সর্বদা কেবিন ব্যাগে রাখুন।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র (Health Declaration Form) ও ভ্যাকসিন কার্ড নিয়মাবলী
ইমিগ্রেশন কার্ডের পাশাপাশি কিছু দেশ এখনও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ইলেকট্রনিক হেলথ ডিক্লারেশন (E-Health Declaration) বাধ্যতামূলক করে রেখেছে:
💉 পোলিও ও ইয়েলো ফিভার ভ্যাকসিন সনদ
আফ্রিকা বা দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ হয়ে ট্রানজিট নিলে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সনদ (Yellow Card) প্রদর্শন করতে হয়। গালফ দেশগুলোতে (GCC) গামকা অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের সম্পূর্ণ ফিটনেস রিপোর্ট স্বাস্থ্য ডেস্কের ডাটাবেজে সিংক করা থাকে।
📱 ডিজিটাল কিউআর কোড হেলথ পাস
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার আগমনী ফরমের সাথেই স্বাস্থ্য বিষয়ক ৪টি সাধারণ প্রশ্ন থাকে (যেমন: গত ১৪ দিনে জ্বর বা কাশি ছিল কিনা)। সকল প্রশ্নের উত্তরে NO সিলেক্ট করে ডিজিটাল হেলথ ডিক্লারেশন সফলভাবে সাবমিট করা যায়।
বাংলাদেশের প্রধান ৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কে পৌঁছানোর গাইড
আপনি ঢাকা, চট্টগ্রাম নাকি সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন তার ওপর ভিত্তি করে ডিপার্চার এরিয়ার কিছু ভৌগোলিক পার্থক্য রয়েছে:
🏢 ঢাকা শাহজালাল (HSIA)
টার্মিনাল ১ ও ২-এর দোতলায় সেন্ট্রাল সিকিউরিটি চেকের পরই মূল ইমিগ্রেশন হল অবস্থিত। মোট ৪০টিরও বেশি বুথ রয়েছে যার মধ্যে প্রবাসী কর্মীদের জন্য ডেডিকেটেড সারি বরাদ্দ থাকে। টার্মিনাল ৩ চালু হওয়ার পর ই-গেটের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
🏢 চট্টগ্রাম শাহ আমানত (CGP)
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ব্যাংককগামী সরাসরি ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের জন্য গ্রাউন্ড ফ্লোরে চেক-ইন শেষে প্রথম তলায় ইমিগ্রেশন গেটে লাইন ধরতে হয়। সেখানে আলাদা প্রবাসী সহায়তা সেল সার্বক্ষণিক সক্রিয়।
🏢 সিলেট ওসমানী (ZYL)
সিলেট থেকে সরাসরি যুক্তরাজ্য (হিথ্রো/ম্যানচেস্টার) ও মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক লাউঞ্জে প্রবেশের মুখে ইমিগ্রেশন কাউন্টার অবস্থিত। এখানে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ হেল্পডেস্ক কাজ করে।
📥 আপনার প্রয়োজনীয় ফরমটি নির্বাচন করে ডাউনলোড করুন
সকল ফরম সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী এ৪ সাইজে প্রিন্ট-উপযোগী করে তৈরি
প্রবাসী ফ্লাইট মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ সহকারী, লাগেজ ক্যালকুলেটর ও প্রি-ডিপার্চার চেকলিস্ট — সবকিছু বাংলায় পান সম্পূর্ণ ফ্রিতে!